গল্প 9 পোস্ট
ফিরে আসার পথ অজানা
তিথির মন এখন ঠিক একটি ঝড়বিহীন সমুদ্রের মতো, উপর থেকে শান্ত, কিন্তু গভীরতায় অস্থির ঢেউ লুকিয়ে থাকে। সে জানে শিমুলের মন ভেঙে যাচ্ছে। জানে তার এক নাগাড়ে শূন্যতা, অপার দহন, অসহনীয় অস্থিরতা। তবুও সে এগিয়ে আসে না। তার মনে প্রশ্ন জন্মায়, সে কি সত্যিই কাউকে উদ্ধার করার মতো শক্তি রাখে? নাকি শিমুলের ভাঙনের ভিতর ঢুকলে সে নিজেও ভেঙে যাবে?
আমার ভাই আমার পৃথিবী
স্বামী অন্যত্র বিয়ে করেছে। তবুও নাহিদার মনে কোনো ক্ষোভ নেই। তিনি বলেন, থাক, স্বামী তার নতুন বউকে নিয়ে সুখে থাকুক। আমি চাই না তার বাড়ি, তার সংসার। আমার পৃথিবী তো আমার ভাই।
একাকীত্ব
সবে মাত্র এইচএসসি শেষ করে কলেজে পা দিয়েছে রাকিন। একমাস হয়ে এসেছে তার এই ক্যাম্পাসে অথচ এখন পযন্ত একটাও বন্ধু যটেনি। পুরো ক্লাস রুমে একা একা ক্লাস করে, চুপচাপ। কারো সাথে কোন কথা নেই। কথা নেই বললে ভুল হবে, কথা বলার মানুষ নেই। কারণ এই বিশাল ক্লাসরুমে একটাও বন্ধু নেই তার। তাই স্যারের পরার মাঝে মাঝে অযথা দুয়েকটা প্রশ্ন করে পুরো ক্লাস রুমটাকে জানান দিতে চায় সে ভালো।
জলপাই রঙের দুঃখ
আষাঢ় মাস ঘরের ঢোয়া একদিন গোবর দিয়ে লেপলে এক বেলার বেশি থাহে না। বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে নেয় । জল বসন্তের মতো টেকরা-বেগরা দাগ হয়ে থাহে । আমার জল্লাদ শাশুড়ি তবুও বলবে, -আলপনা, বৌমা তোমার মা কাজকাম শিখাই নাই । কেমন করে ঘরের ঢোয়া লেপো এক দিনের বেশি থাহে না, কাম চোর কোথাকার।
ছেঁড়া গল্পের সুতো
রেজাউল করিম মন্টু সম্পর্কে যা কিছু জানা যায়—ছেঁড়া ছেঁড়া গল্পের মতো; আর যা কিছু জানা যায় না, পরিচিতদের মধ্যে যারা যুবকের সঙ্গে ঘনিষ্টতার দাবি করে তাদের কেউ কেউ হয়তো একদিন নাসিরের চা-স্টলে চা খেতে বসে বেনসন অ্যান্ড হেজেজের মাথায় আগুন লাগিয়ে বাতাসে ধোঁয়ার রিং বানাতে বানাতে চারুনিশি সম্পর্কে কৌতূহলী হয়ে ওঠে।
অলোক আচার্যের চারটি অনুগল্প
আমি বরাবরই ট্রেনের জানালার পাশে বসতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। তাছাড়া বমি বমি ভাব হয়। অন্য কোথাও বসলে দম বন্ধ লাগে। সন্ধ্যায় রাজশাহী রেল স্টেশন থেকে টিকিট কিনে সিটে আসতেই মনটা খারাপ হয়ে গেলো। সিটটা জানালার পাশে নয়। তার এক সিট পরে। আমি বসে অপেক্ষা করছি আমার সহযাত্রীর জন্য। অবশেষে তিনি এলেন। চোখে কালো গ্লাস। ‘এক্সকিউজ মি’ বলেই আমার পাশে এসে বসলেন। সে-ই চেনা ঘ্রাণ। চোখে চশমা থাকলেও চিনতে অসুবিধা হচ্ছিল না। দশ বছর কি খুব বেশি সময়? আজ বহুদিন পরে জানালার পাশে না বসেও আমার খারাপ লাগলো না।
নিমগ্ন চেতনার গল্পরা
শীতের দুপুরে তখনও রোদের দেখা নাই। কুয়াশামুখর হয়ে আছে সমস্ত বিহাস, আমগাছের ঘন পাতা, ইলেকট্রিক পোল, বাড়ির ঘুলঘুলির ফাঁকে ফাঁকে কুয়াশা মাকড়শার জালের মত লেগে আছে।
অলোক আচার্যের তিনটি অণুগল্প
আজ এই ভয়ংকর সুন্দরের কাছেই আত্মসমর্পণ করতে যাচ্ছি। কোনো চিরকুট লিখে রাখিনি। কী-ইবা লেখার ছিল আমার! যে সুন্দরের কাছে আজীবন প্রতীক্ষা করেছি—আজ তার সাথেই মিশে যাওয়ার অপেক্ষায় আমি!