ভ্রমণ কাহিনী

শান্তিনিকেতন ভ্রমণ

কাব্যকলি
  • ১৭-১০-২০২৫

শান্তিনিকেতন ভ্রমণ

শান্তিনিকেতন নামের মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে জায়গাটির মূল বৈশিষ্ট্য। ‘শান্তির নীড়’ হল শান্তিনিকেতন। সত্যিই এখানে এলে মন জুড়িয়ে যায়, এক আলাদা শান্তির অনুভূতি পাওয়া যায়। লাল মাটি, সবুজ বনানীর চিত্রপটে গড়ে উঠেছে রবীন্দ্রনাথের সৃষ্ট ‘বিশ্বভারতী

শান্তিনিকেতন নামের মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে জায়গাটির মূল বৈশিষ্ট্য। ‘শান্তির নীড়’ হল শান্তিনিকেতন। সত্যিই এখানে এলে মন জুড়িয়ে যায়, এক আলাদা শান্তির অনুভূতি পাওয়া যায়। লাল মাটি, সবুজ বনানীর চিত্রপটে গড়ে উঠেছে রবীন্দ্রনাথের সৃষ্ট ‘বিশ্বভারতী রবীন্দ্রনাথের সৃষ্ট ‘বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়’। প্রকৃতির অতুল ঐশ্বর্য ও শিল্প-সাহিত্যের অপূর্ব মেলবন্ধনে শান্তিনিকেতন ভ্রমণ অভিজ্ঞতা আপনার মনে একটা অন্য ভাবের সৃষ্টি করবে। 
পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার বোলপুর শহরের নিকট কোপাই নদী ও অজয় নদের তীরে অবস্থিত শান্তিনিকেতন। যদিও বর্তমানে কোপাই নদীতে বছরের বেশিরভাগ সময় জল থাকে না।
১৮৬৩ সালে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পিতা দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর রায়পুরের তালুকদার ভূবনমোহন সিংয়ের কাছ থেকে এই কুড়ি বিঘা জমিটির মালিকানা পান। জায়গাটির নাম ছিল ভুবন ডাঙ্গা।রায়পুরে যাওয়ার সময় এই জমিটি দেখে দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের খুব পছন্দ হয়েছিল । তাঁর মনে হয়েছিল এই জায়গাই ঈশ্বর আরাধনা উপযুক্ত স্থান। তাই তিনি এই জমিটি তালুকদার ভূবনমোহন সিংহের কাছ থেকে  কিনে নেন এবং সেখানে একটি বাড়ি তৈরি করে তার নাম দেন ‘শান্তিনিকেতন’। পরবর্তীকালে এই পুরো এলাকাটি শান্তিনিকেতন নামে পরিচিত হয়। প্রচলিত জনশ্রুতি অনুযায়ী এই অঞ্চলের কুখ্যাত ডাকাত দলের জন্য এলাকার লোকদের কাছে অঞ্চলটি ভয়াবহ ছিল। কিন্তু পরবর্তীকালে তারা দেবেন্দ্রনাথের কাছে আত্মসমর্পণ করে এবং শান্তিনিকেতন তৈরিতে সহায়তা করে। ১৮৬৩ সালে দেবেন্দ্রনাথ এখানে একটি আশ্রম তৈরি করেন এবং এবং ব্রাহ্মসমাজ এর সূত্রপাত করেন। 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রথম শান্তিনিকেতনে আসেন ১৮৭৩ সালে, তখন তার বয়স ছিল মাত্র ১২ বছর। ১৯০১ সালে রবীন্দ্রনাথ শান্তিনিকেতনে ব্রহ্মবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীকালে তা বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের রূপ নেয়। এখান থেকে শিক্ষার্থী হিসেবে বহু বিশিষ্ট ব্যক্তির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী অমর্ত্য সেন,ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী, বিশ্ববরেণ্য পরিচালক সত্যজিৎ রায় প্রমুখ। রবীন্দ্রনাথ তাঁর জীবনের দ্বিতীয়ার্ধের অধিকাংশ সময় শান্তিনিকেতন আশ্রমে অতিবাহিত করেছিলেন। তাঁর সাহিত্য ও সৃষ্টিকর্মে শান্তিনিকেতনের পরিবেশ ও প্রকৃতি মিশে রয়েছে। প্রকৃতির সাহচর্যে শিক্ষাদান এই ছিল শান্তিনিকেতন গড়ে তোলার মূল উদ্দেশ্য। বিভিন্ন বিখ্যাত শিল্পীর শিল্পকর্মে সজ্জিত হয়ে বর্তমানে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন স্থান। 
শান্তিনিকেতনে সারা বছর বিভিন্ন উৎসব পালন করা হয়। এর মধ্যে দুটি উল্লেখযোগ্য উৎসব হল পৌষ মেলা ও বসন্ত উৎসব। এই দুই উৎসব উপলক্ষে দেশ-বিদেশ থেকে বহু দর্শনার্থীর সমাগম হয় প্রতিবছরই। পৌষ মেলা শীতকালে শান্তিনিকেতনে প্রত্যেক বছর ৭ই পৌষ শুরু হয় এবং তিনদিন ... (লেখাটির মূল উৎস: #সববাংলায়; বিস্তারিত জানুন এখানে: https://sobbanglay.com/sob/shantiniketan-trip/)
শেয়ার করুন: