পিতামহ
আগুন মিশানো রোদ পার হতে হতে
পিতামহ গেয়েছিল মেঘেদের গান,
জরাঘাস শুয়েছিল কান পেতে পেতে
নদীটাও চেয়েছিল আষাঢ়ের বান।
পিতামহ সুর তোলে, হারায় না তাল
বালিকার পায়ে পায়ে নাচে অবিরত,
দেখেছি কখনো আমি সকাল-বিকাল
পিতামহ সেজদায় থাকে অবনত।
পুনশ্চ পিতামহ
মাঠ থেকে পাকাধান সুখ বয়ে আনে
বাউলেরা ফিরে আসে দোতারার সাথে,
নিশিজাগা চোখগুলো মেতে ওঠে গানে
পিতামহ বসে থাকে চাঁদ নিয়ে হাতে।
অতঃপর মুছে গেলে ক্ষীণ-জোছনা রেখা
দুই চোখে নেমে আসে জমে থাকা ঘুম,
কেন জানি পিতামহ কাঁদে একা একা
ভাঙা চাঁদ দিয়ে যায় তাঁর পায়ে চুম।
সে
সে পড়ে আমার নামে স্বচ্ছ তসবিদানা
হৃদয় বিছিয়ে করে তুমুল জিকির
আমাকে ঘিরেই তার মোরাকাবাখানা
জায়নামাজে ফেলে রাখে চোখের শিশির।
হাত তুলে মোনাজাত করে কাঁপা স্বরে
ক্ষণিকেই নড়ে তাতে আরশের খুঁটি
ঈশ্বরের স্বর্গ নামে আমাদের ঘরে
সে জপে আমার নাম, ভেজা চোখ দুটি।
আমি
আমার মঙ্গল চেয়ে কাঁদে প্রার্থনায়,
তার কাছে চাইনি আমি এর থেকে বেশি
প্রেমের অঞ্জলি দিয়ে সেই এলোকেশী
আমাকে পূর্ণ করে, শুন্য হাতে যায়।
যদিও ভেবেছি আমি, ভেবেছি তো ঢের
কিসের মায়ায় তাকে বেঁধেছে এ মন
অথবা সে কেন আসে এই গৃহকোণ
এ শুধু আত্মার টান? পাই নাতো টের!
মোহের বিজয়
মায়াভরা এ সংসার, গৃহের আসবাব
প্রতিদিন আলিঙ্গনে ভরে দেয় মন
পৃথিবীর কোলাহলে মাতে গৃহকোণ
জোছনার মতোন নামে মায়াবী খোয়াব।
চারিপাশে পরিজন, মুখর সময়
তবু কেন ফাঁকা লাগে বুকের পাঁজর
পূর্বাহ্ন পেরিয়ে গেছে নেমেছে আছর
ঘুমের আগেই হোক মোহের বিজয়।
পড়শি
আমিও চলেছি খুঁজে পড়শির নগর
জীবনের আশেপাশে, সব অলিগলি
নিশিদিন জেগে থাকে জলের শহর
কোথায় পড়শি সে, প্রেমের অঞ্জলি?
আমি তো দিয়েছি প্রেম, তবু অভিমান
চুম্বনে অসাড় সেই কাঙ্খিত গাল
জানি না কোথায় ভাসে অধরা সাম্পান
পড়শিরা তুলেছে কেন এমন দেয়াল?
দুঃখগুলো সুখের মতো
১.
তোমাকে ভেবেই বুকে ব্যথা টের পাই
বাড়ে হৃদয়ের ক্ষত
এমন দুঃখ বারবার পেতে চাই
এ যেন সুখের মতো।
২.
বেদনা রঙের আকাশ তাকিয়ে থাকে
আমাদের পায়ে লেগে থাকে ধূলিকণা,
নদী ভাঙে পাড়, তবু ঘর বাঁধা চলে
দুঃখগুলো সুখ সুখ আলপনা।