জীবনের সেলফিতে
কে তুমি দূর থেকে মায়ায় বাঁধো,
ডেকে যাও আলোর বসন্ত হয়ে আমাদের অন্তর পাড়ায়।
চেয়ে দ্যাখো আজ, সবখানে সকলের উঠোনজুড়ে
পদ্মপাতার মতো ছোপ ছোপ আলপনার ফুল ফুটে আছে।
তার মাঝে ফুটে আছে তোমারই আসার পথ,
জীবন সূর্যের চিরচেনা পথের উপর।
পাশেই শঙ্খধ্বনি আরও শোনা যায়, উলুধ্বনিও জেগে রয়
শিউলি, মল্লিকা আর অপরাজিতার নীল সাদা
রঙে রঙে বিছানো গন্ধমাখা আসনের সাথে।
এদিকে তুমি এলে, আগমনী গান ভেসে এলো-
পাড়ায় পাড়ায় ভেসে এলো ধুপে ধোঁয়া গন্ধ
আর জীবন সেলফিতে
ভেসে এলো তোমারই নাম,”বলো দুর্গা মায় কী? জয়।”
শরতের বসন্ত নগর
আজ কেন শার্টডাউন শরতের দেহে!
তলপেটের ঢেউ নিয়ে তেড়ে আসে
কুয়াশার ফুল, মৌমাছির সুচারু চাকের মতো।
টাকার জমিনে, বসন্তও মলিন হয়-
শরতও দুঃখী! শরমে ভেসে ওঠে
পৃথিবীর কোল। ও পাড়ায় ¯েøাগান চলে,
এ পাড়ায় খুলে যায় শরৎ শরীর।
আর ওপেন সিক্রেট নিয়ে-
কী করেই যে বলি, অসুখের অন্তর
আজ খুঁজেফেরে শরতের বসন্ত নগর।
টক্সিন
আলোর রঙ্গমঞ্চ থেকে খুলে পরে কৃত্রিম পুরাণ।
আমি সেই ঢেউ খেলা পুরাণের গল্প শুনে
হৃদয়ের দিগম্বরে বুনেছিলাম তারই প্রচ্ছন্ন প্রতিচ্ছবি।
সে এখন ঝলসে ওঠে স্বৈরাচারী আগুন শিখায়,
অন্তর পোড়ায়ে গড়ে তোলে হতাশার অসহ্য টক্সিন।
কেন তবে সেইসব দিন, দুই চোখের সবুজ প্রান্তর,
অন্তর পোড়া টক্সিন;
শরতের সুরেলা নদীর ফারাক না বুঝেই
ফাঁদ হয়ে সিঁধ কাটে আমারই বসন্ত বেলায়।
সেই থেকে রাতের ঘুম খুঁজি বিকেলের ভাতঘুমজুড়ে।
রাতটা ওপেন করুন
রাতটা ওপেন করুন। চলুনতো দেখে আসি
সাম্যের পতাকাটা পতপতে উড়ছে কি না!
যদি ওড়ে, তাহলে তো কথাই নেই।
রাতটা বন্ধ থাক। আঁধারও আলোর কাছে ধর্না দিক।
কিম্বা পাশের বাড়ির বৃদ্ধ লোকটির মগজ থেকে বের হয়ে আসুক
পৃথিবীর তাবৎ শোষণের ফ্রুটিকা।
আর কাকাবাবুর ঘরময় ছড়িয়ে পড়–ক বসন্তের ফুট্রোজ।
আকুলতা
যেহেতু মৃত্তিকাজুড়ে ফুল ফোটে, হাওয়া বয়,
জলের উৎসব চলে আদরের ইচ্ছেডানায়;
কেন তবে কষ্টের যন্ত্রণা ফুটে থাকে
এতোসব উন্মাতাল বসন্তনগর, মাঠ, ঘাট জুড়ে।
যেখানে একদিন পোঁতাছিল নাড়ির গন্ধমাধম,
তারাও কি হারিয়ে যাবে চোখ আর শরীরের কাছে!
সময় তাকিয়ে রয় বদলের হাওয়ায়।
পাতারাও ঝরে যায়,
ধুলোপথ উড়ে যায় ফসলের মাঠ,
ক্লান্ত দেহ বসে পরে ভোর ভুলে বিকেলের পাঠে।
এদিকে বাড়ির উঠোনজুড়ে বসে থাক,
কোল পেতে উজার করা উষ্ণতার সবুজ সোহাগ।